রাত একটা পেরিয়েছে অনেক্ষন। এখন প্রায় দুই টা ছূঁই ছূঁই করছে। তবুও
চোখে ঘুম নেই। বিছানায় শুয়ে শুধু এপাশ ওপাশ। মাথার ভেতর এলোমেলো অজস্র
ভাবনা। সময়ের আষ্টেপৃষ্ঠে যাযাবর অতীত, রক্তাক্ত বর্তমান আর অনিশ্চিত
ভবিষ্যৎ মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির হিসাবে। যে
হিসাবের লেনদেনে কখনও সমতা আনতে পারিনি। যে হিসাবের ডেবিট আর ক্রেডিট
মেলেনি কখনও। জানি আজকেও পারবনা তার কোন
সমতা গুছাতে। তবে কেন অহেতুক এই দর কষাকষি নিয়তির সাথে? নিজেকেই নিজে
প্রশ্ন করি অবচেতন মনে। আরও কিছু সময় কেটে যায় এলোমেলোভাবে। এভাবে সময়ের
পরিসরটা দীর্ঘায়িত হয়। অগোছালো সব ভাবনাতে মনের ভেতর হুলুস্তুল বাঁধায়
আচমকা এক দানবীয় ঘূর্নিঝড়। মুহূর্তেই চারপাশ লন্ডভন্ড করে দেয় আমার। ঘড়ির
সেকেন্ডের কাটাটার ঠিক্ ঠিক্ পদধ্বনি এখনও স্পষ্ট কানে আসছে। চারপাশ নিঝুম,
শুনশান নীরবতা, শুধু কানে বাজে সময়ের পদধ্বনি ঠিক্ ঠিক্ ঠিক্ ঠিক্ ঠিক্
ঠিক্ ..........................।
উঠে
বসি অন্ধকারে, খুঁজে বের করি অবহেলায় পেলে রাখা গানের খাতা। অনেকদিন কোন
শব্দের আশ্রয় হয়না সেখানে। প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির হিসাবে ব্যস্ত ছিলাম
বলে। না ! একটাও না ! অবাক লাগে কিভাবে পারলাম এই ভেবে। হাতে নিয়ে চুপচাপ
বসে থাকি নির্বিকার। হঠাৎ গান লিখতে ইচ্ছে হয়। একটা জীবনের গান, ঝড়ের গান,
ফেরার গান, যেখানে একটা নিঝুম রাতের গল্প থাকবে, নিয়তির সাথে বোঝাপড়ার
হিসাব থাকবে, রাতজাগা স্বপ্নের কথা থাকবে, বিমূর্ত সময়গুলো উঠে আসবে, অতীত-
বর্তমান আর ভবিষ্যৎ একাকার হয়ে ভাসবে ভাবনার আকাশে, তারপর ঝড়ের শেষে ঘোর
কালো আঁধার কেটে গিয়ে জেগে উঠবে নতুন একটা ভোর।
২৫-০৯-২০১৪ ইং
রাত- ১:৫০ টা
No comments:
Post a Comment